বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে বদলিপূর্বক বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন করেছে সরকার।
তার কার্যালয়ে যোগদানের পর গত মঙ্গলবার দুপুরে মেডিকেল কলেজের একদল ছাত্র গিয়ে পরিচালকের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন। এর আগেই ৫ দিনের ছুটি নিয়ে সকাল ১০টায় পরিচালক দপ্তর ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে বুধবার তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেন।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, পরিচালকের দপ্তরের সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। পরিচালক তাঁর কক্ষে আছেন। সিনিয়র চিকিৎসক বৃন্দ এবং মহানগর ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন এসে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। বেলা ১২টার দিকে অপসারণ দাবি করা মেডিকেল কলেজের একদল ছাত্র সেখানে উপস্থিত হন। পরিচালকের কক্ষে ঢুকতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পরিচালকের অনুমতি পেয়ে তারা কক্ষে ঢোকেন। এ সময় ড্যাবের নেতারা একে একে উপস্থিত হন।
তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. আজিজ রহিম ও বর্তমান সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান, মেডিকেল কলেজ শাখার বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম সেলিম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ এর সদস্য সচিব, ডা. মিজানুর রহমানসহ জ্যৈষ্ঠ চিকিৎসকরা। নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছাত্রদল-যুবদলের কিছু কর্মীও সেখানে জড়ো হন। তাদের মধ্যে যুবদলের মুরাদুল ইসলাম হিমেল জানান, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য তারা জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্দেশে এসেছেন।
মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা পরিচালকের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। তাদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় ডা. মনিরুজ্জামান শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন। তখন তিনি আন্দোলনবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে তিনি সুবিধাভোগী ছিলেন। ফ্যাসিবাদের দোসর হওয়ায় পরিচালক পদে তাঁকে মেনে নেওয়া হবে না। ছাত্রদের পক্ষে জোরালো ভূমিকা নেন ড্যাবের সভাপতি ডা. নজরুল। তিনি একাধিকবার উত্তেজিত হয়ে পরিচালকের টেবিলে থাপ্পড় দেন। ছাত্ররা দফায় দফায় স্লোগান দেন।
বেলা ২টা পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি চলার পর ডা. নজরুল ইসলাম ও ডা. মিজানুর রহমান পরিচালককে অনুরোধ করেন, তাঁকে আপাতত ৫ দিনের ছুটিতে থাকতে হবে। এ সময়ের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করবেন। ডা. মনিরুজ্জামান এতে রাজি হননি। একপর্যায়ে ডা. নজরুল ওঠে গিয়ে পরিচালককে হাত ধরে টানাটানি করে চেয়ার থেকে ওঠানোর চেষ্টা করেন। এসময় ছাত্ররা মারমুখী স্লোগান দিলে উপস্থিত ছাত্রদল-যুবদল কর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়।
অন্য চিকিৎসদের অনুরোধে পরিচালক কক্ষ ত্যাগে রাজি হলে ডা. নজরুল ছাত্রদের উদ্দেশে বলেন, তাঁকে কোনো প্রকার হেনস্তা করা যাবে না। এরপর ড্যাব নেতা ও অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে দোতলা থেকে নেমে পরিচালক তাঁর গাড়িতে করে দপ্তর ত্যাগ করেন। একই গাড়িতে তাঁর সঙ্গে যান ডা. মিজানুর রহমান ও ডা. নজরুল ইসলাম। পরিচালক বের হবার পরই ছাত্ররা তাঁর কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন।
বুধবার সন্ধ্যায় পরিচালক সমকালকে বলেন, তিনি নিরাপদে বাসায় আছেন। ৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে তিনি সেটি মেনে নেবেন।
ড্যাব সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান মঙ্গলবার জানান, ডা. মনিরুজ্জামান ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করেছেন। আওয়ামী লীগের আমলেও ড্যাবের সঙ্গে ছিলেন। শেবাচিম হাসপাতালে প্রশাসনিক পদে থাকায় আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম সাদ বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় তাঁকে পরিচালক নিয়োগ অনেকে মানতে পারছেন না। তাই বিক্ষোভ হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় শেবাচিম ড্যাবের সভাপতির নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ে এসে পরিচালকের রুমের দরজায় লাগানো তালা ভাঙা দেখতে পেয়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। এতে উপ পরিচালক সহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
ডা. মনিরুজ্জামান শেবাচিম হাসপাতালে ৪ বছর সহকারী পরিচালক ও দুই বছর উপপরিচালক পদে ছিলেন। গত বছর তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। সর্বশেষ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন তিনি।
এসএএস